গন্তব্য-র সঙ্গে মিলে যাওয়া শব্দ—কর্তব্য আর রহস্য
"রাস্তা" সপ্তাহের পঞ্চম দিন "গন্তব্য" (destination)। আগের দিন ছিল "সেতু"।
পূর্ণ মিল ৫১টি, ৩৪টি প্রচলিত
গন্তব্য-র পূর্ণ মিল ৫১টি শব্দের, ৩৪টি প্রচলিত। কাল সেতু-র ছিল পাঁচটি; আজ দশ গুণেরও বেশি।
অর্থ জানা যাদের—তদন্ত (investigation), সদস্য (member), সম্পর্ক (relation, connection), রহস্য (mystery), পছন্দ (preference), কর্তব্য (duty), অবশ্য (surely), অবৈধ (illegal), অযোগ্য (unfit), জঘন্য (abominable), বয়স্ক (aged), অজস্র (many), তরঙ্গ (wave), বসন্ত (spring), সমস্ত (all, whole), কখনও (ever, sometimes)।
গন্তব্য আর কর্তব্য
সবচেয়ে সরাসরি জোড়াটা হলো গন্তব্য আর কর্তব্য।
যেখানে পৌঁছাতে হবে, আর যা করতে হবে। দুটোই সংস্কৃত থেকে আসা, দুটোই "-তব্য" প্রত্যয় দিয়ে গড়া, আর সেই কারণেই দুটো পূর্ণ মিল। তালিকায় মন্তব্য (comment)-ও আছে—একই ছাঁচের তৃতীয় শব্দ।
"-তব্য" মানে "যা করা উচিত"। গন্তব্য মানে "যেখানে যাওয়া উচিত", কর্তব্য মানে "যা করা উচিত"। ব্যাকরণ দুটো শব্দকে একই কারখানায় বানিয়েছে, তাই মিলটা দুর্ঘটনা নয়।
রহস্য
আরেকটা শব্দ পথের গানে কাজে লাগে: রহস্য।
গন্তব্য আর রহস্য—জানা লক্ষ্য আর অজানা কিছু। একই মিলে দুটো বিপরীত ভাব।
সঙ্গে অজস্র (অসংখ্য) আর সমস্ত (সব) রাখলে দূরত্বের একটা ভাব তৈরি হয়।
"-্য" দিয়ে শেষ হওয়া শব্দের ভিড়
তালিকাটা দেখলে একটা জিনিস চোখে পড়ে: প্রায় সবই তৎসম শব্দ, আর অনেকগুলো "-্য" দিয়ে শেষ—অবশ্য, অনন্য, অসহ্য, অযোগ্য, জঘন্য, সর্বস্ব, রহস্য, কর্তব্য, মন্তব্য।
এই সপ্তাহে প্রত্যেক দিন কোনো না কোনো ব্যাকরণের ছাঁচ মিল তৈরি করেছে: ক্রিয়ার নামরূপ (রাস্তা, চলা), "-জনক" (সড়ক), আর আজ "-্য" ও "-তব্য"।
স্বরের মিল মাত্র ২০টি
একটা বিরল ব্যাপার: গন্তব্য-র স্বরের মিল মাত্র ২০টি শব্দের। অ–ও–ও ধাঁচটা এতই বিরল যে চওড়া স্তরটাও ছোট থেকে যায়।
উল্টোদিকে শেষ ২ অক্ষর আর শেষ অক্ষরের মিল দুটোই ১২০-এর সীমা ছাড়িয়ে যায়—কারণ ও-তে শেষ হওয়া তৎসম শব্দ বাংলায় অগণিত।
Raimz-এ "গন্তব্য" খুঁজে মিলের শব্দ ও উচ্চারণের পূর্ণ তালিকা দেখুন।