"মন" দিয়ে ছন্দ মেলানো
"আজকের ছন্দ"-এ যে শব্দগুলো নিয়ে কথা হয়েছে, তার মধ্যে এই সপ্তাহে আমরা "মন" নিয়ে একটু গভীরে যাব।
"মন"-এর গড়ন
"মন" এক অক্ষরের শব্দ — উচ্চারণ /mon/। স্বর o, আর শেষে ব্যঞ্জন n।
Raimz বাংলায় মিল মাপে দুইভাবে। পূর্ণ মিল-এ শেষের ব্যঞ্জনও মিলতে হয়, আর স্বরের মিল-এ শুধু স্বরটা দেখা হয়। "মন"-এর মতো এক অক্ষরের শব্দে পূর্ণ মিলের জাল স্বাভাবিকভাবেই ছোট হয় — গোটা শব্দটাই তো এক অক্ষর, আলাদা করে ছাড় দেওয়ার জায়গা নেই।
"মন"-এর সাথে মিল থাকা শব্দ
পূর্ণ মিল মাত্র ৭টি: বোন, ফোন, কোন, কোণ, জোন, ড্রোন, স্টোন।
এর মধ্যে বোন, ফোন, কোন, কোণ — এই চারটি রোজকার শব্দ; বাকি তিনটি ইংরেজি থেকে আসা।
শেষ অক্ষরের মিল-এ তালিকা অনেক চওড়া হয়ে যায়, কারণ বাংলায় "-ন" দিয়ে শেষ হওয়া শব্দের অভাব নেই: মিলন, বন্ধন, গোপন, কারণ, প্রয়োজন — আর এখন, তখন, যখন, কখন, এই গোটা সময়সূচক দলটাই একসাথে ঢুকে পড়ে। সাথে ভ্রমণ, দর্শন, বেতন, ওজন, আসন, ভবন, সাধারণ।
স্বরের মিল-এ শেষের ব্যঞ্জন বাদ দিয়ে শুধু o দেখা হয়, আর তালিকা দাঁড়ায় ১১৯টি-তে। এখানেই সবচেয়ে মজার জিনিসটা ঘটে — "মন"-এর সাথে অর্থে জড়িয়ে থাকা শব্দগুলো প্রায় সব একসাথে চলে আসে:
শোক, ক্রোধ, ক্ষোভ, লোভ, বোধ, দোষ, চোখ, রোদ, ভোর, জোর, রোগ, লোক, চোর।
শোক, ক্রোধ, ক্ষোভ, লোভ, বোধ — মনের অবস্থা বোঝানো এতগুলো শব্দ যে একই স্বরে বাঁধা, সেটা কাকতালীয় হলেও গান লেখার সময় কাজে লাগানোর মতো।
এক অক্ষরের "ও"-এর ভাণ্ডার: ১২৭টি শব্দ
Raimz বাংলায় এক অক্ষরের o স্বরওয়ালা শব্দ মোট ১২৭টি। এই সপ্তাহের সাতটি শব্দের মধ্যে চারটি — মন, বই, শোধ, গোল — সবাই এই একই ভাণ্ডারের ভেতরে।
ভাণ্ডারটা শেষ ব্যঞ্জন অনুযায়ী ৪৭টি দলে ভাগ হয়ে যায়। "মন"-এর দল ৮টি শব্দের: মন, বোন, ফোন, কোন, কোণ, জোন, ড্রোন, স্টোন। পাশের দলগুলোতে আছে ওর, চোর, জোর, ভোর একসাথে (-র), লোক, শোক, হোক একসাথে (-ক), আর রোম, শ্রম, হোম (-ম)।
স্বর এক, শেষ ব্যঞ্জন আলাদা। এইটুকুই সপ্তাহের দিনগুলোকে আলাদা করে রাখে।
এক ধ্বনি, দুই বানান
উপরের সাতটির মধ্যে দুটো শব্দ কানে এক রকম শোনায়: কোন আর কোণ। প্রথমটার মানে "কোনটা", দ্বিতীয়টার মানে কোণ, বাঁক।
উচ্চারণ এক, বানান আলাদা, অর্থ আলাদা। মিলের তালিকা বানান দেখে না — শুধু ধ্বনি শোনে। তাই দুটোই একই দলে বসে থাকে।
"মন" যেসব শব্দে আছে
বাংলায় "মন" আছে এমন শব্দ ১২৯টি। কিন্তু তার একটিও "মন"-এর পূর্ণ মিলে আসে না।
কারণটা সহজ: "মন"-এর আগে বা পরে কিছু জুড়লেই শব্দ লম্বা হয়ে যায়, আর পূর্ণ মিলের শর্ত বসে গোটা শব্দের উপর। অর্থ কাছেই থাকে, মিল দূরে সরে যায়।
যেটা পাওয়া যাবে না
"মন"-এর পাতায় কাছাকাছি ধ্বনি-র ঘরটা ফাঁকা থাকে। এটা ত্রুটি নয়: এক অক্ষরের শব্দে "একটা ধ্বনির পার্থক্য" মানে গোটা অক্ষরটাই বদলে যাওয়া, ফলে তালিকা ভরে যেত সম্পূর্ণ অসম্পর্কিত শব্দে। তাই এক অক্ষরের শব্দে Raimz ইচ্ছে করেই এই তালিকা দেখায় না।
অন্য ভাষায় "মন"
Raimz বাংলা ছাড়াও জাপানি, কোরিয়ান, ইন্দোনেশিয়ান, হিন্দি আর তাগালগ সামলায়। "মন"-এর সমার্থক শব্দের পূর্ণ মিলের সংখ্যা ভাষাভেদে বেশ আলাদা:
- ইন্দোনেশিয়ান hati — ১০০
- কোরিয়ান 마음 — ৪৩
- তাগালগ puso — ২৩
- বাংলা মন — ৭
- হিন্দি दिल — ৪
পার্থক্যের কারণ শুধু অভিধানের আকার নয়, অক্ষরের গড়নও। hati খোলা স্বরে শেষ হয় বলে তাকে শুধু a–i মেলালেই চলে; "মন"-কে শেষের n-ও মেলাতে হয়। শর্ত যত কড়া, সঙ্গী তত কম।
শেষ কথা
"মন"-এর পূর্ণ মিল কম, কিন্তু স্বরের মিলে যে শব্দগুলো আসে সেগুলোই আসলে মনের কথা বলে। Raimz-এ নিজে খুঁজে দেখুন।
এই লেখাটি "আজকের ছন্দ" সিরিজের এই সপ্তাহের থিম "মন" নিয়ে।