পথ-এর সঙ্গে মিলে যাওয়া শব্দ—একটিও নেই
"রাস্তা" সপ্তাহের শেষ দিন "পথ"। আগের দিন ছিল "পদক্ষেপ"।
শূন্য
পথ-এর পূর্ণ মিল শূন্য। একটাও শব্দ নেই।
কাল পদক্ষেপ-এর ছিল একটি। আজ একটাও না। পুরো ভাণ্ডারে এমন কোনো শব্দ নেই যার স্বর অ এবং যা "থ" দিয়ে শেষ হয়—পথ ছাড়া।
এবং পথ বাংলার সবচেয়ে চেনা শব্দগুলোর একটা। রোজ ব্যবহার হয়, গানে-কবিতায় অগণিতবার এসেছে। তবু মিলের হিসেবে সে একা।
এক অক্ষরের শব্দ কেন সবচেয়ে কঠিন
কাল আমরা দেখেছি লম্বা শব্দের মিল কম। পথ এক অক্ষরের—তাহলে সহজ হওয়ার কথা ছিল।
উল্টোটা হয়, আর কারণটা মিলের নিয়মে। পথ-এর পুরো মিল-চাবি হলো অ + থ। এর মধ্যে ছাড় দেওয়ার মতো কিছু নেই। লম্বা শব্দে শেষ অংশটুকু মিলিয়ে দিলেই চলে, কিন্তু এক অক্ষরের শব্দে পুরোটাই শেষ অংশ।
তার উপর "থ" বাংলায় শব্দশেষে বিরল ব্যঞ্জন।
যে দুটো শব্দ কাছে আসে
শেষ অক্ষরের মিলে ঠিক দুটো শব্দ আছে: রাজপথ (প্রধান সড়ক) আর রেলপথ (রেললাইন)।
দুটোরই শেষে "পথ"—অর্থাৎ যে দুটো শব্দ পথ-এর সঙ্গে মেলে, তারা আসলে পথ-কে নিজেদের ভেতরে রেখে দিয়েছে।
এটা এই সিরিজের সবচেয়ে সাফ উদাহরণ: কোনো শব্দের মিলের সঙ্গী না থাকলে, একমাত্র সঙ্গী হয় সেই শব্দ দিয়েই বানানো যৌগ শব্দ।
স্বরের মিলে ফেরা
তবে পথ একেবারে একা নয়। স্বরের মিলে—যেখানে শেষের ব্যঞ্জনের শর্ত তুলে নেওয়া হয়, শুধু স্বর অ মেলাতে হয়—তালিকাটা ১২০-এর সীমা ছাড়িয়ে যায়। সেখানে পর, সব, দল, জয়, ভয়, কর, হল-এর মতো রোজকার শব্দ ফিরে আসে।
পূর্ণ মিলে শূন্য, চওড়া স্তরে ভিড়। শর্ত কতটা কড়া, তার উপরেই সব নির্ভর করে।
রাস্তা থেকে পথ
এই সপ্তাহ শুরু হয়েছিল রাস্তা দিয়ে (১৯৯টি মিল, সঙ্গে "যাত্রা"), তারপর চলা (৭৩, ক্রিয়ার নামরূপের কারখানা), সড়ক (১৪, মহাসড়ক আর মাইলফলক), সেতু (৫, যেহেতু-সেহেতু), গন্তব্য (৫১, কর্তব্যের সঙ্গে), পদক্ষেপ (১, হস্তক্ষেপের সঙ্গে), আর শেষ হলো পথ-এ (০)।
সবচেয়ে বড় শিক্ষাটা প্রথম ও শেষ দিন মিলে দাঁড়িয়ে যায়: রাস্তা আর পথ—এক অর্থের দুটো শব্দ। একটার ১৯৯টি সঙ্গী, অন্যটার একটাও না।
Raimz-এ "পথ" খুঁজে মিলের শব্দ ও উচ্চারণের পূর্ণ তালিকা দেখুন।
"রাস্তা" সপ্তাহ এখানেই শেষ। পরের সপ্তাহের বিষয় "আগুন"।